ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে ইউক্রেন ইস্যুতে ভোট দেয়নি সরকার: বিএনপি

লেখক: সকাল বেলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবে বাংলাদেশের ভোট না দেওয়ার সমালোচনা করেছে বিএনপি। এ বিষয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতাসীন সরকার তার ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে দেশবাসীর জনমতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মিয়ানমারের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনে জাতিসংঘের নিন্দা প্রস্তাবের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন সরকার একইভাবে দেশবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে ভূমিকা নিয়েছিল।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনের ওপর এই আক্রমণকে নিন্দা করছি। আমরা মনে করি, এ ধরনের আক্রমণ একটি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি।’
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে হামলা বন্ধ এবং দেশটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। ভোটাভুটিতে ১৮১টি দেশ অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৪১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। বাংলাদেশসহ ৩৫টি দেশ এই প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কর্মকাণ্ডে এটাই প্রতীয়মান হয় যে বাংলাদেশ সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে—যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকিতে ফেলছে। এই আক্রমণকে ইউক্রেনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং তার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের আধিপত্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদী তৎপরতা জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী অপরাধ। তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে, দেশবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত জনমত গোটা বিশ্বের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারবিষয়ক মূল স্রোতের সঙ্গে মিশে আছে। কিন্তু দেশের ক্ষমতাসীন সরকার তার ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে দেশবাসীর জনমতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবের পক্ষে ভোটদানে বিরত থেকেছে, যা বাংলাদেশের সংবিধান ঘোষিত গণতন্ত্র ও মানবিক মূলবোধের নীতিমালা পরিপন্থী।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ইউক্রেনসহ যেকোনো দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের মৌলিক অধিকারকে শ্রদ্ধা করে এবং তার সীমা লঙ্ঘনকে বিরোধিতা করে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন জবাবদিহিহীন কর্তৃত্ববাদী সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই জনমতের তোয়াক্কা করে না। বিএনপি সব সময়েই সব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে প্রবহমান বিশ্বজনমতের পক্ষে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনে জাতিসংঘের নিন্দা প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও সরকার দেশবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে ভূমিকা নিয়েছিল। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার কার্যকরী অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে।