ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি পাটের শাড়ি ও ব্যাগে

লেখক: সকাল বেলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

করোনার কারণে এক বছর বিরতির পর এবার আবার শুরু হয়েছে বহুমুখী পাটপণ্য মেলা। গতকাল মঙ্গলবার ছিল তিন দিনব্যাপী মেলার শেষ দিন। মেলায় এই খাতের উদ্যোক্তাদের ৩৫টি স্টলে প্রায় ১৫০ ধরনের পাটপণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হয়েছে। তবে এই তিন দিনে ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা গেছে পাট দিয়ে তৈরি শাড়ি ও ব্যাগের প্রতি।

জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) এই মেলার আয়োজন করেছে। তেজগাঁওয়ের জেডিপিসি ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এবারের আয়োজন মেলার ষষ্ঠ আসর। অতীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বড় ভেন্যুতে মেলার আয়োজন করা হতো। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার কিছুটা ছোট পরিসরে জেডিপিসি ভবনের প্রাঙ্গণেই মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ২০০ ক্রেতা-দর্শনার্থী মেলার বিভিন্ন দোকান ঘুরে ঘুরে পণ্য দেখছেন। এর মধ্যে পাটের তৈরি শাড়ি ও ব্যাগ ছাড়াও ছিল ফ্লোর ম্যাট, টেবিল ম্যাট, পাপস, কার্পেট, ঝুড়ি, ফুলের টব, শিকা, সালোয়ার-কামিজ, বিভিন্ন রঙিন সুতাসহ বহু ধরনের পণ্য। এ ছাড়া জেডিপিসি সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত প্রদর্শন কেন্দ্রেও পাটপণ্য ঘুরে দেখেছেন অনেক ক্রেতা।

জেডিপিসি সূত্র জানায়, মেলার প্রথম দিনে ১ লাখ ৮১ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়। দ্বিতীয় দিনে বিক্রি হয় প্রায় তিন লাখ টাকার, আর শেষ দিনেও কাছাকাছি বিক্রি হবে বলে জানান তাঁরা। প্রকৃত পরিসংখ্যান প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার বাসিন্দা চিকিৎসক মাশরুরা রহমান মেলা থেকে পাটের তৈরি টেবিল রানার সেট ও ব্যাগ কিনেছেন। এবারই প্রথম পাটপণ্য মেলায় এসেছেন তিনি। মাশরুরা প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাটের তৈরি ব্যাগ আগে ব্যবহার করেছি। কিন্তু ব্যাগের যে এত প্রকার আছে, তা এই মেলায় এসে জানতে পারলাম। এক দিনে তো পছন্দ করে সব কিনতে পারলাম না। মেলার সময় কিছুটা বেশি থাকলে আরও ভালো হতো।’

মেলায় পাট দিয়ে তৈরি শাড়ি, ওড়না ও ব্যাগ বিক্রি হয়েছে হ্যান্ডমেইড বিডির স্টলে। এই প্রতিষ্ঠানের বিপণন কর্মকর্তা মো. নাসিম খান জানান, গত দুই দিনে গড়ে প্রায় ২০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে তাঁদের স্টল থেকে। তৃতীয় দিনেও ৩০ হাজার টাকার বেশি বিক্রির আশা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, প্রথম দিন শাড়ি ও দ্বিতীয় দিনে ব্যাগ বেশি বিক্রি হয়েছে। নতুন স্থানে মেলা হওয়ায় মানুষ কিছুটা কম হয়েছে। তবে সার্বিক বিক্রি ভালো হয়েছে।

জেডিপিসির নির্বাহী পরিচালক ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ‘অনেক দিন পরে মেলা হচ্ছে। সে হিসাবে উদ্যোক্তা ও ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। গত দুই দিনের বিক্রিতে আমাদের উদ্যোক্তারাও খুশি। মেলায় সময় বাড়ানোর জন্য অনেকে বলেছিলেন। সে জন্য ২৬ মার্চের দিকে আবার তিন দিনের জন্য বিশেষ মেলার আয়োজন করার কথা চিন্তা করছি আমরা।’