বেনাপোলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আহত ২ নিহত ১

লেখক: সকাল বেলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

রবিউল ইসলাম বেনাপোল প্রতিনিধি:  যশোরের বেনাপোলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এমপি গ্রুপ ও মেয়র গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ২ জন মারাত্মক আহত এবং ১ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

১৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৭: ৩৫ মিনিটে যশোরের বেনাপোলে ০৪ নম্বর পৌর ওয়ার্ডের, কাগজপুকুর রেললাইনের সাইডে মেয়র (আশরাফুল আলম লিটন) গ্রুপ ও এমপি (আফিল) গ্রুপদ্বয়ের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারির এ ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়, বেনাপোল পৌর মেয়রের পার্টি অফিস থেকে মগর আলী, ইয়াসিন ও হাসান আলী ইফতার করে বাড়ি ফিরছিলেন। পূর্বপরিকল্পনা মাফিক এমপি সমার্থকেরা তাদের পিছু নেই। কাগজপুকুর রেল লাইন ক্রস করলেই ২ গ্রুপের মধ্যে মারামারি বাধে। মারামারিতে মেয়র গ্রুপ এর সমর্থক ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মগর আলী (৬০) পিতা-মৃত শারেং আলি, ইয়াসিন (১৬) পিতা হাসান আলী ও হাসান আলি, পিতা মগর আলী আহত হন। আহত সকলেই পৌর ০৪ নং ওয়ার্ড, কাগমারী গ্রামের বাসিন্দা। প্রথম দুইজন ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন, মগর আলীর ছুরিকাঘাতে পেটের ভুড়ি বের হয়ে যায় ও ইয়াসিনের ছুরিকাঘাতে এক পাশের কিডনিতে চাকু অনেকটা ভিতরে ঢুকে যায় এবং হাসান আলীর মাথায় আঘাত লাগে। তাদেরকে রাত ৯:৫ মিনিটে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তির কিছুক্ষণ পরেই মগর আলীর মৃত্যু হয়।

নিহতের ছেলে হোসেন আলী বলেন, আমার বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। তিনি বেনাপোল পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের অনুসারী। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি পৌর আওয়ামী লীগের অফিসে ইফতার করেন। ইফতার শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। ফেরার পথে কাগজপুকুর গ্রামের হারুনের ইলেক্ট্রনিক্সের দোকানের সামনে এলে বাবার ওপর হামলা চালানো হয়। বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কোপায় সন্ত্রাসীরা।

তিনি আরো বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। বাবাকে বাঁচাতে গেলে আমাদেরও ছুরিকাঘাত ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এ সময় আমি আমার ভাই হাসান ও ভাইপো ইয়াসিনকে ছুরি ও দা দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে আমরা যশোর জেনারেল হাসপাতালে এসে ভর্তি হই। হামলাকারীদের মধ্যে ছিল রাজু আহমেদ, শামসুর রহমান, আরব আলী, হারুন, জাহাঙ্গীর, সোহেল, রফিক, জুয়েল ও হাকিমসহ আরব আলী, হারুন, সোহেল, জাহাঙ্গীর ও সাদেকসহ প্রায় ১৫ জন। তারা সকলে এমপি আফিল উদ্দিনের অনুসারী।

এবিসয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার দায়িত্বরত এএসআই সাজেদুর রহমান বলেন হামলার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি তবে এবিষয়ে তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেফতার করতে অভিজান চলছে।