ডিহির ইউপি সদস্য মফিজুরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ

লেখক: বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

শার্শা উপজেলার ১নং ডিহি ইউনিয়ানের ১নং ওয়ার্ড তেবাড়িয়ার ইউপি সদস্য মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে পাশের গ্রামের বাবুর ছেলে সাগর হোসেনের উপর পূর্ব শত্রুতার জেরে এক সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে।

১৭ই এপ্রিল রবিবার সন্ধ্যার ইফতারির পর তেবাড়িয়া নিয়ামত ডাক্তারের দোকানের সামনে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়, ইফতারি শেষ করে সাগর তেবাড়িয়া মোড়ে বসে ছিলো, পরে বাসার জন্য নিয়ামত আলী গ্রাম্য ডাক্তারের কাছ থেকে ঔষধ নিয়ে দোকান থেকে বের হলেই মফিজুর মেম্বারের নেতৃত্বে তার উপর এক সন্ত্রাসী হামলা চলে। ১০-১২ জন মিলে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন করে। পরে তার উপর মিথ্যা হামলা করতে আসার কথা বলে রটানো হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছালে সাগরের অবস্থা গুরুত্বর দেখে তার পরিবারকে আগে উন্নত চিকিৎসা দিতে বলেন ।

এবিষয়ে সাগরের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে সাগর বলেন, আমি ঔষধ কিনে দোকান থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে মফিজুর মেম্বারের নেতৃত্বে আজিজুর, লিমন, রাসেল, মেজে খোকন, মিয়ারাজ, শুকুর, আলতাব, তরিকুল, নজু, সাইদুল ও রানা সহ আরো কয়েকজন আমাকে এলোপাথাড়ি বাঁশ, লাঠি ও রড দিয়ে পেটাতে থাকে। মারতে মারতে তারা আমার দুই ঠ্যাং তারা গুড়ো গুড়ো করে দিয়ে আবার আমার নামেই মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। আমাকে বিনা কারণে ক্ষমতার জোড়ে আজ মেম্বার পঙ্গু করে দিলো, আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠ বিচার চাই।

এবিষয়ে মফিজুর মেম্বার বলেন, সাগর রাম-দা নিয়ে আমাকে মারতে আসলে, আমার সমার্থকেরা রেগে তাকে মারধর করে। সাগর প্রায় আমার প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে বোমাবাজি সহ নানা হামলা চালায়। কিন্তু এবার সে হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছে। পরে তাকে আমরা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি বলেন, মফিজুর এই গ্রামের একজন বড় সুদ কারবারি। তার আছে অবৈধ অর্থ সহ পোষ্য বিশাল সন্ত্রাসী বাহীনি, তার ভয়ে এলাকায় কেউ কথা বলতে পারেনা। কিছুদিন আগেও সে বাবুর চায়ের দোকানে এক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে।

এবিষয়ে শার্শা থানার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, হামলার ঘটনাটি সত্য। আহত সাগরের অবস্থা গুরুত্বর দেখে আমি তার পরিবারকে আগে উন্নত চিকিৎসা দিতে বলি। আমি প্রাথমিক তদন্ত করে জেনেছি কয়েকমাস আগে সাগরের সহিত মিয়ারাজের একটা গন্ডগোল হয়, তারপর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২ গ্রামের মেম্বার ও পুলিশ থেকে সেটির মীমাংসা করে দেয়। তারই জের ধরে পরবর্তীতে গতকাল এ হামলার ঘটনাটি ঘটে। তবে আমরা এখনো কোন অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।